রাজপথের ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন না করলেও অবহেলা করবেন না: ওয়াহাব আকন্দ
রাজপথের ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন না করলেও অবহেলা করবেন না: ওয়াহাব আকন্দ
মো আমান উল্লাহ, বাকৃবি:
রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা রাখা নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন না করলেও ইচ্ছাকৃতভাবে অবহেলা না করার আহ্বান জানিয়েছেন ময়মনসিংহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ। তিনি বলেছেন, যারা দীর্ঘদিন রাজপথে থেকে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছেন এবং দলের জন্য ত্যাগ স্বীকার করেছেন, তাদের মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। শনিবার (৮ আগস্ট) বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন মিলনায়তনে বাংলাদেশ সোসাইটি ফর ভেটেরিনারি এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চের (বিএসভিইআর) ৩২তম বার্ষিক বৈজ্ঞানিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ বলেন, ‘আমরা যারা রাজপথ থেকে উঠে এসেছি, এ দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ থেকে সর্বোচ্চ ডিগ্রি নিয়েছি, তাদের অন্তত মূল্যায়ন না করলেও অবহেলা করবেন না। একজন মানুষকে ইচ্ছাকৃতভাবে খাটো করার অধিকার কারও নেই।’ অনুষ্ঠানে উপস্থিত শিক্ষক, গবেষক, শিক্ষার্থী ও বিদেশি অতিথিদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান। এ ধরনের আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক সম্মেলন থেকে অর্জিত জ্ঞান ও গবেষণার ফল দেশের কৃষি ও প্রাণিসম্পদ খাতে কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি হয়। বক্তব্যের শেষ দিকে আগস্ট মাসের বিভিন্ন ঐতিহাসিক ঘটনা ও আন্দোলন-সংগ্রামে নিহতদের স্মরণ করে তাঁদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন তিনি। একই সঙ্গে দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে সবাইকে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
অধ্যাপক ফজলুল হক ভূঁইয়া বলেন, কৃষি, ভেটেরিনারি কিংবা মৎস্য খাতের নীতিমালা প্রণয়নের ক্ষেত্রে মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা ও গবেষণালব্ধ তথ্যকে গুরুত্ব দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও গবেষকদের দীর্ঘদিনের গবেষণা ও মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো যেতে পারে। কৃষক ও গ্রামীণ অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে এবং কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের উৎপাদন বাড়াতে গবেষকদের সঙ্গে নীতিনির্ধারকদের সমন্বয় জরুরি। সরকার চ্যালেঞ্জ দিলে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা নীতি প্রণয়ন ও উপযুক্ত পরিকল্পনা তৈরিতে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। তিনি বলেন, বাণিজ্যিক খামারের জন্য উচ্চ উৎপাদনশীল জাত উন্নয়নের পাশাপাশি দেশের আবহাওয়া ও গ্রামীণ খামার ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ দেশি গরু, ছাগল ও হাঁস-মুরগির উৎপাদনশীলতা বাড়াতে হবে। বিএসভিইআরের সভাপতি ও সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আলিমুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাকৃবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া।
বিশেষ অতিথি ছিলেন বাকৃবির ভেটেরিনারি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. বাহানুর রহমান, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খান ও ইন্টার অ্যাগ্রো বিডি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. এ কে এম খসরুজ্জামান। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক, শিক্ষার্থী, দেশ-বিদেশের অতিথি ও বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
নিউজটি আপডেট করেছেন : lifestyledesign847@gmail.com
কমেন্ট বক্স